আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিজেপির অন্দরেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী ও সমর্থকদের একাংশ ঘোষিত প্রার্থীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
দল ইতিমধ্যে দু’দফায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, তবে এখনও বেশ কিছু আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। এই অবস্থায় বাকি আসনগুলিতে কাকে দাঁড় করানো হবে, তা নিয়ে নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়ছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের ভেতরের মতবিরোধ সামলানো।
এরই মধ্যে বারাসতের এক প্রবীণ নেতা ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের প্রাক্তন প্রার্থী ডাঃ মৃণালকান্তি দেবনাথের বক্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, সেই সময় তাঁকে প্রার্থী করার পর এক কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা তাঁর কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। যদিও তিনি সেই দাবি মানেননি বলেই জানিয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, দলের মধ্যে এখন আগের মতো স্বচ্ছতা নেই। পাশাপাশি হাবড়া কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ওই এলাকায় স্থানীয় যোগ্য ব্যক্তির অভাব ছিল না, তবুও বাইরে থেকে একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
ডাঃ দেবনাথ আরও জানান, ভবিষ্যতে তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করবেন না। বর্তমানে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চান, যদিও দলের প্রতি সমর্থন বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, হাবড়ার বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, এতদিন পর এই ধরনের কথা তোলার পেছনে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সাধারণ মানুষও এই অভিযোগকে তেমন গুরুত্ব দেবেন না বলেই তিনি মনে করেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে বিজেপির ভেতরের এই টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


