মালদার চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রবিবার কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরই দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ চরমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং অবরোধের মতো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
সূত্রের খবর, প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহবুবের নাম প্রার্থী হিসেবে সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দলের বহু কর্মী ও সমর্থক। তাঁদের দাবি ছিল, এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হোক আনজারুলহক জনিকে। সেই দাবিতে একজোট হয়ে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা।
ক্ষোভে ফেটে পড়া কর্মীরা চাঁচলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন এবং সেখানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। এরপর বিক্ষোভকারীরা তরলতলা মোড়ে গিয়ে রাস্তা আটকে দেন। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, স্থানীয় কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে উপরতলার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু কর্মী অভিযোগ তোলেন, অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে এবং এর পিছনে অন্য রাজনৈতিক সমঝোতাও থাকতে পারে। যদিও এই সব অভিযোগ নিয়ে দলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে আনজারুল হক জনি নিজেও এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করার পরও তাঁর নাম বিবেচনায় আনা হয়নি। তাঁর সমর্থকদের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বড় আকারে আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন।
অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী আসিফ মেহবুব। তিনি জানান, একটি কেন্দ্রে একাধিক দাবিদার থাকলে কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এবং দলকে শক্তিশালী করার উপরই জোর দেন।
ঘটনার পর থেকে চাঁচল এলাকায় টানটান পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে এই অশান্তি আগামী দিনে নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।


