দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ে এক সংবেদনশীল পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাড়ির সামনে গিয়ে প্রচার চালাতে গিয়ে চরম বিরোধিতার মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় এবং স্থানীয়দের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বচসা পর্যন্ত গড়ায়।
সোমবার সকালে প্রচারের উদ্দেশ্যে বিজয়গড়ের অনন্যা অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছন পাপিয়া অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক। কিন্তু এলাকায় ঢুকতেই পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শোকের আবহের মধ্যেই সেখানে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া শুরু হয়, যা একেবারেই অনভিপ্রেত। অনেকেই সরাসরি বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে ওই জায়গা থেকে চলে যেতে বলেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য, একজন সদ্য প্রয়াত শিল্পীর বাড়ির সামনে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ অসংবেদনশীল। তাঁদের মতে, এই মুহূর্তে সেখানে শুধুই শ্রদ্ধা ও নীরবতা বজায় রাখা উচিত ছিল। কিন্তু সেই পরিবেশকে উপেক্ষা করে প্রচার চালানোর চেষ্টা করা হয় বলেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এর জেরে রাস্তায় হট্টগোল শুরু হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি চরমে ওঠে।
এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে বিজেপির ভূমিকা নিয়েও। অনেকের দাবি, মানুষের আবেগ এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝেই প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলেন, ভোটের রাজনীতিতে মানবিকতার জায়গাটা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। দিঘায় শুটিং করতে গিয়ে তিনি জলে নেমেছিলেন, সেখানেই দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার, সহকর্মী ও অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই শোকের আবহেই বিজয়গড়ে ঘটে যাওয়া এই রাজনৈতিক ঘটনা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন সংবেদনশীল মুহূর্তে রাজনৈতিক প্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল। পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।


