অসমে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। একটি নির্বাচনী সভায় তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার লক্ষীমপুর জেলার ঢকুয়াখানায় এক প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আসা কিছু মানুষ অসমের জমি দখল করে বসবাস করছে। সেই প্রসঙ্গ তুলেই তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে। তাঁর কথায়, আগেরবার যেমন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবার আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে “মিয়া” শব্দটি ব্যবহার নিয়ে। অসমে এই শব্দটি এখন অনেক ক্ষেত্রেই অপমানজনক অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং মূলত বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশকে বোঝাতে বলা হয়। ফলে তাঁর বক্তব্যে ওই সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশও এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাঁদের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ভাষা প্রত্যাশিত নয়। এতে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে, ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবেই উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার এই ধরনের মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
অন্যদিকে, ওই সভায় তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে সরকার বিপুল পরিমাণ জমি দখলমুক্ত করেছে। এই উচ্ছেদ অভিযানে বহু মানুষের উপর প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম বসতিগুলিতে। ফলে এই বিষয়টিও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজিত হওয়ার কথা। তার আগে এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিবাসন, জমির অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয় এখন নির্বাচনের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।


