শিলিগুড়ি শহরের কাওয়াখালি এলাকায় রামনবমী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৯ মার্চ, আর তার পরদিনই পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রামনবমীর শোভাযাত্রার সময় একদল অংশগ্রহণকারী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সামনে এসে থামে। অভিযোগ, তখন কয়েকজন ব্যক্তি মাদ্রাসার গেট বেয়ে উপরে উঠে যায়। তাদের মধ্যে দু’জনকে হাতে তলোয়ার নিয়ে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে নাচতে দেখা যায়। উপস্থিত ভিড় থেকে তাদের উৎসাহও দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দুই ব্যক্তি মাদ্রাসার গম্বুজের কাছে উঠে গিয়ে গেরুয়া রঙের কাপড় বা পতাকা বেঁধে দেয়। সেই সময় তারা বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিল বলেও জানা যায়। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার সময় মাদ্রাসার কিছু অংশেও ক্ষতি করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এরপর কাওয়াখালি থানার পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে মামলা রুজু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ এবং বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ।
৩০ মার্চ পুলিশ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তবে ভাইরাল ভিডিওতে আরও কিছু লোকের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে, তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় ঠিক কী কী ঘটেছে এবং কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করার অধিকার সকলেরই আছে, তবে তা পালন করতে গিয়ে অন্যের ধর্মীয় স্থানের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে কাওয়াখালি এলাকার পরিস্থিতি নজরে রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।


