হুগলী জেলার চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্র এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে। পূর্ব দিকে ডানকুনির শিল্পাঞ্চল, যেখানে দিল্লি রোড ও দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে বহু ছোট ও মাঝারি কারখানা গড়ে উঠেছিল। অপরদিকে পশ্চিম অংশ জুড়ে রয়েছে গ্রামীণ এলাকা, যেখানে মূলত কৃষিকাজই মানুষের জীবিকার প্রধান ভরসা। এই শিল্প ও কৃষির মিশ্রণেই গড়ে উঠেছে এই কেন্দ্রের সামগ্রিক চিত্র।
২০০৯ সালে বামফ্রন্ট সরকারের সময় ডানকুনি পৌরসভার সূচনা হয়। এই পৌরসভা ছাড়াও চণ্ডীতলা ১ ও ২ নম্বর ব্লকের মোট ১১টি পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। তবে বর্তমানে ডানকুনির শিল্প পরিস্থিতি বেশ খারাপ অবস্থায় রয়েছে। একসময় এলাকার প্রধান দুটি বড় শিল্পের মধ্যে একটি কোল কমপ্লেক্স বন্ধ হয়ে গেছে, আর অন্যটি প্রায় অচল অবস্থায়। ফলে বহু শ্রমিক কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রমিকের বদলে অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হচ্ছে, কিন্তু তাদের নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত।
গত ১৬ বছর ধরে এই পৌরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের অধীনে থাকলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী নাগরিক পরিষেবার উন্নতি তেমন হয়নি। রাস্তা, পরিবহণ এবং অন্যান্য পরিষেবা নিয়েও মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগে যেসব বাস রুট চালু ছিল, তার মধ্যে বেশ কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা বেড়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যায়। চণ্ডীতলা গ্রামীণ হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে অনেক সময় রোগীদের দূরের হাসপাতালে বা বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে হচ্ছে। জনাইয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও আগে ভর্তি পরিষেবা থাকলেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে।
এলাকার আরও একটি বড় অভিযোগ হল, রাস্তার পাশের জলনিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ করে জমি ভাগ করে বিক্রি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা বাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বামফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী শেখ আসিফ আলি এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন কর্মসংস্থান, জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ একাধিক দাবি মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে বর্তমান বিধায়কের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষও প্রকাশ্যে আসছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, আগের বামফ্রন্ট আমলে শিক্ষা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছিল, যা এখন থমকে রয়েছে। সব মিলিয়ে চণ্ডীতলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।


