পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের ঘনঘন রাজ্য সফর এবং তাঁদের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে বিভাজনের রাজনীতি সামনে আনা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ—এই তিন শীর্ষ নেতা একাধিক সভা করে রাজ্যে প্রচার জোরদার করেছেন। তাঁদের বক্তৃতায় বারবার ধর্ম, অনুপ্রবেশ এবং জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গ উঠে আসছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির।
মঙ্গলবার মালদহের মনিকচক ও গাজোলে সভা করেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, এই ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয় এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বার্তা ছড়াতেই এই প্রচেষ্টা।
শাহর বক্তব্যে অযোধ্যার রাম মন্দির প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিরোধীদের মতে, একটি ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ভোটে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বা শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আড়াল করতেই এই ধরনের প্রসঙ্গ বারবার তোলা হচ্ছে।
অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন শাহ। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভয় ও সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়, যা সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর।
এছাড়াও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ইস্যু সামনে এনে মুসলিমদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা বজায় রাখার পরিবর্তে একরকম নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিজেপি নির্বাচনের আগে আবেগঘন এবং বিতর্কিত ইস্যুগুলিকে সামনে এনে ভোটের সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষের একাংশের মত, বাস্তব উন্নয়ন এবং দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানই হওয়া উচিত নির্বাচনের মূল ইস্যু। ভোটের আগে বিজেপির প্রচার কৌশল ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


