মধ্যপ্রদেশের কাটনি রেলস্টেশনে একসঙ্গে ১৬৩ জন নাবালক ছাত্রকে উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১২ এপ্রিল রাতের দিকে। বিহার থেকে মহারাষ্ট্রগামী একটি ট্রেন থেকে মোট ১৬৩ জন কিশোরকে নামিয়ে আনে রেল পুলিশ। প্রথমে বিষয়টি ঘিরে মানব পাচারের সন্দেহ তৈরি হলেও পরে পরিবারগুলির বক্তব্যে নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি।
রেল পুলিশের দাবি, ওই ট্রেনে থাকা শিশুদের সঙ্গে যথাযথ নথিপত্র ছিল না। কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে—এই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না মেলায় সন্দেহ হয় কর্তব্যরত আধিকারিকদের। এরপরই ট্রেন থামিয়ে সকলকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে বিহারের আরারিয়া জেলার পরিবারগুলির বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তাঁদের দাবি, এই ছেলেরা কেউই পাচারের শিকার নয়। সকলেই পড়াশোনার জন্য মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার একটি মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বহু বছর ধরেই এইভাবে ছাত্রদের বাইরে পাঠানো হয় ধর্মীয় শিক্ষার জন্য।
এক অভিভাবক জানান, তাঁর সন্তান আগেও ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছে। এবার তাকে আবার পাঠানো হচ্ছিল কুরআন শিক্ষার আরও উন্নতির জন্য। তাঁর অভিযোগ, ভুল বোঝাবুঝির জেরেই এত বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই সন্তানদের পাঠাই। এতে কোনো বেআইনি কাজ নেই।”
অন্যদিকে, আটক হওয়া ব্যক্তিরাও দাবি করেছেন, তাঁরা ছাত্রদের ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যেই নিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগেও একইভাবে বহু ছাত্রকে বিভিন্ন মাদ্রাসায় পৌঁছে দিয়েছেন বলে তাঁদের বক্তব্য।
ঘটনার জেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন এবং দ্রুত সন্তানদের মুক্তির আবেদন জানান। বর্তমানে ওই ছাত্রদের জবলপুরে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশুদের বক্তব্য, অভিভাবকদের নথি এবং আটক ব্যক্তিদের তথ্য মিলিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে ছাত্রদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই শিশুদের নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও কড়া হওয়া দরকার বলেও মত অনেকের।


