নির্বাচনের আগে কলকাতা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় নাকা চেকিং, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল এবং পুলিশের তৎপরতায় গোটা শহর কার্যত নজরবন্দি। তবে এই কড়াকড়ির মাঝেই সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির সময় যাত্রীদের ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়ম মেনে নজরদারি চালানো হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের অনুমতি না নিয়েই তাঁদের ছবি তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে, যা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নিরাপত্তার নামে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘিত হচ্ছে।
চেকিংয়ের সময় শুধু গাড়ির কাগজপত্র নয়, ব্যক্তিগত ব্যাগ এবং সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়েও নানা প্রশ্ন করা হচ্ছে। এতে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়ছেন। ব্যস্ত সময়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে। কর্মসূত্রে বা জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষদের এই কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সম্প্রতি এই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন তল্লাশির নামে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অপমানজনক হয়ে উঠছে। একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, এক মহিলা যাত্রীকে তল্লাশির সময় অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এখন নিয়মিত নাকা চেকিং চলছে। শ্যামবাজার, টালিগঞ্জ-সহ একাধিক এলাকায় এই তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি চেক পয়েন্টে কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ এবং বিশেষ নজরদারি দল একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা করে ভিডিও টিমও রাখা হয়েছে, যারা পুরো প্রক্রিয়া রেকর্ড করছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত ব্যবস্থা মূলত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার জন্যই নেওয়া হয়েছে। চেকিং প্রক্রিয়ার রিপোর্ট নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে জমা দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের সম্মান ও গোপনীয়তাও সমানভাবে রক্ষা করা উচিত।


