মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুবিধা এতদিন ভারত পেয়ে আসছিল, তা আর চালু রাখা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর ফলে আগামী দিনে রুশ তেল আমদানির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গিয়েছে, আগে ভারতের অনুরোধে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু এবার তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার পর আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে আগের মতো সুবিধা আর মিলবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে রুশ তেল কেনা হলে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সংস্থা ও জাহাজ পরিবহণ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে বাণিজ্যিক ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই সতর্ক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ভারতের মোট তেল আমদানির একটি বড় অংশই রাশিয়া থেকে আসে। তুলনামূলক কম দামে তেল পাওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে এই কড়াকড়ি চালু হলে সেই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না বলেই আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা। মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি বাড়াতে হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপরও। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখনই বলা কঠিন হলেও, এই সিদ্ধান্ত যে ভারতের অর্থনীতি ও বাজারে প্রভাব ফেলবে, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


