ভোটের আগে একটি স্টিং ভিডিও ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকায় এবার বিষয়টি আদালতের দরজায় পৌঁছেছে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে আবেদনটি জমা পড়ে। আগামী ২২ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হেনস্তা করার জন্যই এই ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল সামনে আসা ওই ভিডিওতে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর-এর কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে তিনি নাকি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। ভিডিওতে এমনও ইঙ্গিত মেলে যে, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর জন্য নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, বিরোধী শিবিরের কিছু নেতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি ভোটে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এইসব মন্তব্য সামনে আসতেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
তবে এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণভাবে বিকৃত বা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হতে পারে। এই প্রসঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানানো হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, ভিডিওটির আসল সত্য সামনে আনার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা ভোটের পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। স্টিং ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন আইনি পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে।


