এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় আসলে মোস্তারি বানুর জয়, সিপিএমের জয়। সেখানে মমতা ব্যানার্জীর কোনও নামই নেই। এমনটাই দাবি করলেন মামলাকারী মোস্তারি বানু।
দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, ট্রাইবুনালের অনুমোদন পাওয়া আবেদনকারীদের নাম ভোটের ঠিক দু’দিন আগে তালিকায় যুক্ত করতে হবে। সেই অনুযায়ী ২৩ এপ্রিল যেসব কেন্দ্রে ভোট রয়েছে, সেখানে ২১ এপ্রিলের মধ্যে এবং ২৯ এপ্রিলের ভোটের ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। ফলে শেষ মুহূর্তে বহু বাদ পড়া ভোটারের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই রায়ের পরই বঙ্গ রাজনীতিতে চাপানউতোর শুরু হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এই জয় তাদের জয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করেছিলেন বলে এই জয় এসেছে। যদিও প্রমাণ সহযোগে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন মোস্তারি বানু।
একটি ভিডিও বার্তায় মোস্তারি বানু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বলেছেন এস আই আরের জয় ওনার জয় কিন্তু সকলেই কাগজে দেখবেন মোস্তারি বানু বনাম নির্বাচন কমিশন আছে। এখানে কোনও মমতা ব্যানার্জির নাম নেই। তিনি একদম মিথ্যাবাদী মহিলা। এই জয় মোস্তারি বানুর জয়, এই জয় সিপিএমের জয়। এই রায় যদি আগে দিত তাহলে সাধারণ মানুষ আরও উপকৃত হত”।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা এলাকার বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সি এক সাধারণ গৃহবধূ মোস্তারি বানু। তিনিই প্রথম এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকরা অকারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মোস্তারি বানু জানিয়েছেন, বিভিন্ন ছোটখাটো কারণে যেমন নামের বানান, পারিবারিক তথ্য বা অন্য অসঙ্গতি মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ফলে অনেক শ্রমিককে কাজ ছেড়ে বারবার বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, যা তাঁদের জন্য বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে। এই কারণেই তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন।
৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী একদল আইনজীবী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন। তবে এর মাঝেই সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেছিলেন মুর্শিদাবাদের এক গৃহবধূ, মোস্তারি বানু। তিনি জানান, গত নভেম্বরেই ওই আবেদন জমা পড়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায় আসলে নির্বাচন কমিশনের গালে বড় থাপ্পড়।


