বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের চর্চায় সাগরদিঘির ‘বিশ্বাসঘাতক’ বায়রন বিশ্বাস। এমনকি অধীর চৌধুরীকে ‘গুরু’ বলেও দাবি করলেন তিনি।
সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস সাংবাদিক বৈঠকে নিজের মুখেই স্বীকার করলেন দলবদলকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেই মনে করেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বায়রন বলেন, “আমি স্বার্থপর। আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। বলব না যে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। আমার হাতেখড়ি অধীররঞ্জন চৌধুরীর হাতে। তাঁকে সারাজীবন মনে রাখব। ভগবানের পরে অধীর চৌধুরীর স্থান।”
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও অধীর চৌধুরীকে তিনি ‘দাদা’ হিসেবেই শ্রদ্ধা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ নেই।
আসন্ন নির্বাচনে নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শোনালেও বায়রনের বক্তব্য, ভোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সাধারণ মানুষই। তাঁর কথায়, “আমার চেয়ে যদি কেউ ভালো সামাজিক পরিষেবা দিতে পারেন, তবে তাঁকেই জয়ী করুন।”
বায়রনের এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “নিজেই যখন স্বীকার করছে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তখন সাধারণ মানুষই ঠিক করবে বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘি আসনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সুব্রত সাহা। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাঁর মৃত্যু হলে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয়ী হন বায়রন বিশ্বাস। তাঁর জয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ‘সাগরদিঘি মডেল’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে জয়লাভের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই অভিষেক ব্যানার্জীর হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে শাসকদলে যোগ দেন বায়রন। এবার নির্বাচনের আগে নিজেই সেই সিদ্ধান্তকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে স্বীকার করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


