২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তা প্রকাশ্যে আসতেই কারও সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আবার কোথাও তা রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুজাপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নাম বিশেষভাবে সামনে এসেছে।
রাজনীতিতে তাঁর পথচলা দীর্ঘদিনের। শুরুতে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পরে সভাধিপতির দায়িত্বও সামলান। এরপর মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন। পরবর্তীতে নতুন কেন্দ্র গঠনের পর একাধিকবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করেন। ২০১৮ সালে দলবদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ২০২১ সালের ভোটে সেই দলের প্রার্থী হিসেবেই জয় পান। রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি সেচ ও জলসম্পদ এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। এবারের ভোটে তাঁকে সুজাপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের আব্দুল হান্নান।
নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বড় অংশ জুড়ে রয়েছে, আর অস্থাবর সম্পত্তি তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি তাঁর উপর কিছু ঋণ বা দায়ও রয়েছে, যার পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকার ঘরে। অন্যদিকে, আগের নির্বাচনের সময় অর্থাৎ ২০২১ সালে তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ অনেকটাই কম ছিল। সেই সময় মোট সম্পদের অঙ্ক ছিল ২ কোটিরও নিচে। স্থাবর ও অস্থাবর—দুই ধরনের সম্পত্তির পরিমাণই তখন বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। দায়-দেনার অঙ্কও ছিল নগণ্য।
২০২৬ সালে সাবিনা ইয়াসমিনের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৫৮ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৬৫ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৩৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৬২ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৫ কোটি ২৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৭০৩ টাকা। পাশাপাশি তাঁর দায়-দেনার পরিমাণ প্রায় ৭৫ লক্ষ ৭০ হাজার ৬৬৭ টাকার কাছাকাছি।অন্যদিকে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর ঘোষিত মোট সম্পত্তি ছিল প্রায় ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৭৬৬ টাকা। সেই সময় অস্থাবর সম্পত্তি ছিল প্রায় ১১ লক্ষ ২৪ হাজার ১৪৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ১ কোটি ৭৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬২০ টাকা।
দুই সময়ের হিসাব পাশাপাশি রাখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, গত পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে ঋণের অঙ্কও বেড়েছে কিছুটা। এই পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ভোটের আগে প্রার্থীদের আর্থিক বিবরণ প্রকাশ পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই এখন এই তথ্য খতিয়ে দেখে নিজেদের মতামত তৈরি করছেন, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


