ভোটের অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের এক বাসিন্দা, মোনোয়ারা খাতুন। গত ২৪ বছর ধরে ভোট দিয়ে আসা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। তাঁর কাছে পাসপোর্ট রয়েছে, এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। গত প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তবুও সাম্প্রতিক তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তিনি সমস্যায় পড়েন।
জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ মার্চ তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট তালিকা থেকে। এরপর ৩ এপ্রিল তিনি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন এবং নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানান। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও তাঁর সেই আবেদন এখনও শুনানির তালিকায় ওঠেনি। এতে করে ভোটের আগে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এদিকে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ভোটের আগে ভোটার তালিকা একটি নির্দিষ্ট দিনে স্থির হয়ে যাবে। ফলে তার আগে যদি তাঁর আবেদন নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে তিনি আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ট এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে। আদালত নির্দেশ দেয়, সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল যেন নিয়মের বাইরে গিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাঁর মামলার শুনানি করে। অর্থাৎ, অন্য মামলার আগেই তাঁর আবেদনটি শোনা হবে, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
তবে একই দিনে আরেকটি মামলার শুনানিতে আদালত ট্রাইব্যুনালের কাজের উপর আস্থা প্রকাশ করেছে। সেই মামলায় অভিযোগ ওঠে, নির্দিষ্ট ফর্মের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ,আদালত আগেই জানিয়েছিল যে শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন পেলেই নতুন নাম যুক্ত করা যাবে। নির্ধারিত সময়সীমার পরে নতুন আবেদন গ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এই বিষয়ে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ট্রাইব্যুনাল নিজের নিয়ম মেনে কাজ করছে এবং সেই প্রক্রিয়ার উপর তাদের ভরসা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে নাম অন্তর্ভুক্তি ও বাদ পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।


