রাজ্যে আসন্ন-এর প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবার মোটরবাইক ব্যবহারের উপর বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের দু’দিন আগে থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
প্রথম দফার ভোট নির্ধারিত হয়েছে ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সেই কারণে মঙ্গলবার থেকেই একাধিক জেলায় এই নির্দেশ চালু হয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা—এই সব জেলায় ভোট হবে প্রথম পর্যায়ে। একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমেও একই দিনে ভোটগ্রহণ হবে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের আগে দুই দিন এবং ভোটের দিন কোনও ধরনের বাইক মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এই ধরনের জমায়েত বা প্রদর্শনকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাইক চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণভাবে বাইক চালানো নিষিদ্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে। যেমন চিকিৎসার প্রয়োজন, বা পরিবারের কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইক ব্যবহার করা যাবে।
দিনের বেলাতেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কাউকে বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এখানেও কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের আনা-নেওয়া, চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতিতে এই নিয়ম শিথিল করা হবে।
ভোটের দিন অবশ্য কিছুটা আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাইক ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও ছাড় থাকবে।
এবার শুধু যানবাহন নয়, মদের দোকান নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সাধারণত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও, এবার তা আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দফার ক্ষেত্রে চার দিন আগে থেকেই দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও একইভাবে আগেভাগেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নির্দেশাবলি ভোটকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অশান্তি ও অনিয়ম ঠেকাতেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই নিয়ম ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


