রাজধানী দিল্লিতে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক কেন্দ্রীয় কর আধিকারিকের ২২ বছর বয়সি মেয়েকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাড়ির প্রাক্তন পরিচারককে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর প্রতিশোধ নিতেই এই অপরাধ ঘটানো হয়েছে।অভিযুক্তের নাম রাহুল মীনা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই আধিকারিকের অমর কলোনির বাসভবনে কাজ করতেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, রাহুলের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ ছিল। ধার করা টাকা ফেরত না দেওয়া থেকে শুরু করে সন্দেহজনক কাজকর্ম—সব মিলিয়ে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রায় এক মাস আগে এসব কারণেই তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন সকালে আধিকারিক ও তাঁর স্ত্রী বাইরে ছিলেন। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন তাঁদের মেয়ে। সকাল আটটা নাগাদ তাঁরা ফিরে এসে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়।ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে, তরুণীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর পোশাক ছেঁড়া অবস্থায়। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, প্রথমে তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়, তারপর গলায় মোবাইল চার্জারের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা জানতে মেডিক্যাল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত আগে ওই বাড়িতে কাজ করার সুবাদে বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবেই জানত। অধিকাংশ দরজা পাসকোডে খোলা হলেও, সেই কোডগুলি তার জানা ছিল। এমনকি তার কাছে বাড়ির ডুপ্লিকেট চাবিও ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ সে বাড়িতে ঢোকে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর পোশাক বদলে বেরিয়ে যায়।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক ছিল। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দোয়ারকা এলাকার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। নিহত তরুণী আইআইটি দিল্লির প্রাক্তনী ছিলেন। তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং পাশাপাশি নাচের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনার পর আবারও রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাড়িতে ঢুকে আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুন, দিল্লিতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
Popular Categories


