দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াংয়ে ভোটারদের উদ্দেশে এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে বহু বছরের অমীমাংসিত গোর্খা সমস্যার সমাধান ছয় মাসের মধ্যেই করা হবে। তাঁর বক্তব্য, এই সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান করার ক্ষমতা একমাত্র বিজেপিরই রয়েছে।
গোর্খা সমস্যা বলতে মূলত উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলাদা রাজ্যের দাবিকে বোঝায়। যদিও তাঁর বক্তব্যে আলাদা রাজ্যের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবুও “স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান”-এর কথা বারবার উঠে আসে। বিজেপি আগেও একাধিকবার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে স্পষ্টভাবে পৃথক রাজ্য গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভোট লগ্নে রাজনৈতিক পারদ তুংগে উঠেছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, বিজেপি কি তবে আলাদা গোর্খাল্যান্ড তৈরি করে বঙ্গভঙ্গ করার পক্ষে? বিজেপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে গিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে। তাদের মতে, ধর্ম ও ভাষার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে ভোটের মেরুকরণই বিজেপির মূল কৌশল।
সমালোচকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের কিছু অংশকে আলাদা করার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য উঠে এসেছে বিজেপির নেতাদের মুখে। উত্তরবঙ্গ বা জঙ্গলমহল নিয়ে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে, যা অনেকের মতে বাংলার ঐক্যের পক্ষে বিপজ্জনক। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘বাংলা ভাগ’ ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছেই, যা আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


