ভোটের পর প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! বাঁকুড়ার কোতুলপুরে তৃণমূল প্রার্থীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের চক্রান্ত
ভোটপর্ব শেষ হতেই বাঁকুড়ার কোতুলপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে উত্তেজনা তুঙ্গে। দলের এক নেতার উপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। আহত ওই নেতা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ জাকির খান, যিনি সংগঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে জাকির খান বাইকে করে নিজের বাড়ি থেকে জয়পুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে জঙ্গলের ধারে কিছু দুষ্কৃতী তাঁর রাস্তা আটকে দেয়। এরপর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে আশপাশের কয়েকজন মানুষ তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে খবর দেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে বিষ্ণুপুরের একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর জাকির খান অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। তাঁর দাবি, দলেরই কিছু লোক এই ঘটনায় জড়িত এবং পরিকল্পনা করে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোতুলপুরের তৃণমূল প্রার্থীর এক আত্মীয়ের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা মানতে চাননি, তবুও দলের ভিতরে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের মধ্যে ক্ষমতা ও টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে, আর সেই কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। সব মিলিয়ে, ভোটের পরপরই এই হামলার ঘটনায় কোতুলপুরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


