পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম (১৪২ নম্বর) কেন্দ্রে হঠাৎ করেই বড় রাজনৈতিক পালাবদল দেখা গেল। কংগ্রেসের প্রার্থী আবদুল মাজিদ হালদার দল ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দলে নাম লেখান আবদুল মাজিদ হালদার। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শামিম আহমেদ। ভোটের একেবারে আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রে নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের দলবদল সাধারণত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। অনেক সময় দেখা যায়, হঠাৎ করে দল পরিবর্তনের ফলে পুরনো সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নতুন দলে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। এখানেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।আবদুল মাজিদ হালদার দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেলা স্তরের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। বিশেষ করে প্রাক্তন সুন্দরবন জেলা কংগ্রেস সভাপতি অধ্যাপক মনোরঞ্জন হালদার এবং বর্তমান জেলা সভাপতি মোক্তার আহমেদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল উল্লেখযোগ্য। শুধু তাই নয়, তিনি আগে মগরাহাট পশ্চিম ব্লক কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ফলে এলাকায় তাঁর একটি নিজস্ব সংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পক্ষে এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতার বিদায় দলকে দুর্বল করে দিতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এটি বাড়তি শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই দলবদলের প্রভাব নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ভোটারদের মানসিকতায় এর কী প্রভাব পড়বে এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনায় মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্র যে নতুন করে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়।
Popular Categories


