একসময় কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের জন্য শিরোনামে উঠে এসেছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। পরে বিচারকের পদ ছেড়ে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সাংসদও হন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতিতে এসেছেন।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আবহে তাঁকে কার্যত প্রচারের ময়দান থেকে দূরে দেখা যাচ্ছে। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় বিজেপির প্রচার জোরকদমে চললেও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। পূর্ব পাঁশকুড়া এলাকায় তো তাঁর নামে ‘মিসিং পোস্টার’ও দেখা গিয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, “নিখোঁজ বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়”।
এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কেউ বলছেন, তিনি অসুস্থ। আবার অন্য একটি মহলের দাবি, দলই তাঁকে সামনে আনতে চাইছে না। কারণ, অতীতে তাঁর কিছু মন্তব্য বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি তৈরি করেছিল।
কয়েক মাস আগে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, শুধুমাত্র হিন্দিভাষী নেতাদের এনে বাংলার ভোট করানো সম্ভব নয়। তাঁর মতে, বাংলার মানুষের মানসিকতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি আলাদা। দিল্লির নেতারা সেই বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝেন না। এই মন্তব্যের পর থেকেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
এছাড়াও তাঁর একটি পুরনো মন্তব্য এখন আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “কেন্দ্র চায় না তৃণমূলকে উৎখাত করতে।” সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অন্দরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সেই মন্তব্যই বিজেপির অস্বস্তির অন্যতম কারণ।
যদিও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শারীরিকভাবে অসুস্থ। পূর্ব পাঁশকুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মাইতি জানিয়েছেন, হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তখনই অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি তিনি অসুস্থও হন, তাহলে অন্তত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দলের সমর্থনে প্রচার করতে পারতেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেরকম কিছু দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যখন বাংলার ভোটে বারবার আসছেন, তখন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।


