দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রের ইভিএমে বন্দি হয়ে গেল প্রার্থীদের ভাগ্য। দিনভর কিছু বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা ও অশান্তির খবর সামনে এলেও সামগ্রিকভাবে ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে গোটা রাজ্যকে একপ্রকার সুরক্ষিত ঘেরাটোপে রাখা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এদিন মোট ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৯২ শতাংশের কিছু বেশি। জেলার মধ্যে পূর্ব বর্ধমানে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে, যা ৯৩ শতাংশেরও বেশি। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতায় তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়েছে, যদিও উত্তর কলকাতায় অংশগ্রহণ কিছুটা বেশি ছিল। এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও ছিল তুঙ্গে। এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। তাদের আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষকে সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে যে, দলের কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে, এমনকি মহিলাদের প্রতিও কড়া ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে হাওড়ার একটি কেন্দ্র থেকে, যেখানে ভোট দিতে গিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের দাবি।
অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বচসার জেরে ওই বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পূর্ব বর্ধমানের কয়েকটি বুথে সাধারণ ভোটারদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাহিনীর আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। এমনকি কিছু জায়গায় বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও একাধিক ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কোথাও শিশু আহত হয়েছে বলে অভিযোগ, আবার কোথাও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সংঘর্ষ দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী। অন্যদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম বিকল হয়ে পড়ায় ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে যন্ত্র বদল করে পুনরায় ভোট শুরু করা হয়। দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা, স্লোগান পাল্টা স্লোগানের ঘটনাও সামনে এসেছে। কিছু জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।


