পশ্চিমবঙ্গে দু’দফার ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনাকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটকৌশল সংস্থা IPAC-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল বৃহস্পতিবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেনি। আদালতের বিচারক অমিত বানসাল জানান, সরকারি কৌঁসুলিকে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা করেননি। এরপরই আদালত জামিন মঞ্জুর করে।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিনেশকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। পরদিন আদালত তাঁকে ১০ দিনের জন্য ইডির হেফাজতে পাঠায়। সেই মেয়াদ শেষ হলে ২৩ এপ্রিল তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যেই তিনি অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেছিলেন, তবে সেই আবেদন প্রথমে খারিজ হয়ে যায়। শেষমেশ বৃহস্পতিবার তাঁর জামিন মেলে।
তদন্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এই মামলাটি প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং এক্ট-এর আওতায় চলছে। দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে প্রথমে তদন্ত শুরু হয়, পরে সেই দায়িত্ব নেয় ইডি। সংস্থার দাবি, আই-প্যাকের সঙ্গে তাঁর উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে।
এই মামলার সূত্রে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই কলকাতায় সংস্থার অফিস এবং আর এক ডিরেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশির সময় কিছু নথি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী সরানো হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
এই গোটা ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভোটের মাঝামাঝি সময়ে গ্রেফতার এবং ভোটপর্বের পরেই জামিন—এই সময়কাল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, এই পর্যায়ে তদন্তকারী সংস্থা জামিনের বিরোধিতা না করায় বিনেশের মুক্তির পথ সহজ হয়েছে।


