মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা অস্থায়ী সংঘর্ষবিরতি এখন ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। আলোচনার প্রক্রিয়াও কার্যত থেমে গেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে পাকিস্তান জানিয়েছে, কূটনৈতিক স্তরে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন ইরানকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা কড়া বার্তা দেওয়া হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রক্ষায় তারা আপসহীন। তিনি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
এরই মধ্যে ইরানের নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক শাহরাম ইরানি এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তাঁর দাবি, খুব শীঘ্রই ইরান এমন একটি আধুনিক অস্ত্র প্রকাশ করতে চলেছে, যা শত্রুপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যদিও অস্ত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবু বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন এটি অত্যাধুনিক টর্পেডো প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই অস্ত্র সমুদ্রের তলায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলতে সক্ষম এবং শত্রুর যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এর গতি প্রচলিত টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এই উত্তেজনার আবহেই ভ্লাদিমির পুতিন–এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। সেখানে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি যে দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে না, তা স্পষ্ট।


