বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের নানা এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ কেন্দ্রেও তার প্রভাব স্পষ্ট। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেলেও, বামনপুকুর এলাকায় ভোটের পর এক গুরুতর অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় মহলে।
অভিযোগ, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মহুয়া সর্দার মাইতির বাড়িতে সোমবার গভীর রাতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে হঠাৎই বাড়িতে ঢুকে পড়ে। দরজা-জানলা ভেঙে তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়, বহু জিনিসপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, সোনা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, ওই সময় বাড়ির মহিলাদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, মহুয়া সর্দার মাইতির মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উজ্জ্বল মাইতি দাবি করেছেন, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নেতৃত্বেই এই আক্রমণ হয়েছে এবং উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় তাদের প্রভাব খর্ব করা। ঘটনায় তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি হেরে গিয়ে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং তাদের জনপ্রতিনিধিদের নিশানা করছে। পাল্টা বিজেপির দাবি, এই ঘটনা তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। বরং এটি তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।
ঘটনার খবর পেয়ে মিনাখাঁ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনার পর থেকে বামনপুকুর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় আবার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।


