Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

গেরুয়া দাপটে ধাক্কা তৃণমূলকে, মমতাসহ একাধিক মন্ত্রীর পরাজয়ে বদলাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ!

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এ বার ভোটে গেরুয়া শিবিরের দাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন। প্রায় দেড় ডজন হেভিওয়েট নেতার হার রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

পরাজিতদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মলয় ঘটক এবং সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতো আরও অনেক পরিচিত মুখ। মোট ১৮ জন মন্ত্রী ভোটে হেরে গেছেন। কোথাও ব্যবধান ছিল খুব অল্প, আবার কিছু ক্ষেত্রে ব্যবধান বেশ বড় ছিল। কয়েকটি কেন্দ্রে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও শেষ পর্যন্ত জয় আসেনি।

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রের লড়াই। এখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুরুতে গণনায় শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও পরে ব্যবধান কমতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত এই আসনে জয় পান শুভেন্দুই, যা এই নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সব মন্ত্রীই যে হেরেছেন, তা নয়। তৃণমূলের ১১ জন মন্ত্রী নিজেদের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে দলের ভিত পুরোপুরি নড়বড়ে হয়নি বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

এ বারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বেশ কিছু নতুনত্ব ছিল। অনেক জায়গায় প্রার্থী বদল করা হয় এবং একাধিক মন্ত্রীকে বিভিন্ন জেলা থেকে লড়াইয়ে নামানো হয়। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় একাধিক মন্ত্রীকে প্রার্থী করা হয়েছিল। হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, বর্ধমানসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও মন্ত্রীরা ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন।

কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিচিত মুখদের দেখা গিয়েছে। ভবানীপুর, বন্দর, বালিগঞ্জ ও শ্যামপুকুর—এই সব কেন্দ্রেই মন্ত্রীদের লড়াই ছিল নজরকাড়া। একইভাবে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের একাধিক আসনেও মন্ত্রীদের প্রার্থী করা হয়েছিল।

তবে ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অনেক জায়গাতেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন ধরেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও শহরতলির কিছু এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়তে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে শাসক দল। এ বারের নির্বাচন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে শাসক দলের ধাক্কা, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের উত্থান—এই দুইয়ের মাঝে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories