মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন পর সাফল্যের মুখ দেখল বাম শিবির। এই জয়ের নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি এলাকায় ‘রানা’ নামেও পরিচিত। নতুন প্রজন্মের নেতাদের থেকে খুব বেশি সাড়া না মিললেও, অভিজ্ঞ এই নেতার হাত ধরেই বামেদের খাতা খুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজ্যজুড়ে যখন গেরুয়া শিবিরের উত্থান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন ডোমকলের ছবি কিছুটা আলাদা। এখানে নিজেদের পুরনো জমি ফিরে পেয়েছে বামেরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ দেখা যায়। জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। রঙ খেলে, আবির মেখে উদযাপন করতে দেখা যায় বহু মানুষকে।
তবে এই উচ্ছ্বাসের মাঝেও সংযমের বার্তা দিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক। ফল প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানান। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চারপাশে উৎসাহী ভিড়ের মধ্যেই তিনি শান্তভাবে সবাইকে বোঝাচ্ছেন দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা।
মুস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, তিনি শুধু একটি দলের প্রতিনিধি নন, ডোমকলের প্রতিটি মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাই কোনওভাবেই এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে অন্য দলের সমর্থক বা সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, জয়ের আনন্দ যেন কখনও উগ্র আচরণে পরিণত না হয়।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে যখন নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর অশান্তির খবর সামনে আসছে—কোথাও ভাঙচুর, কোথাও দখলদারি—সেই প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি কর্মীদের সতর্ক করে দেন, অতিরিক্ত উল্লাস বা শক্তি প্রদর্শনের নামে কেউ যেন পরিস্থিতি খারাপ না করে।
নিজের পুরনো পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে যেমন ছিলেন, এখনও তেমনই আছেন—শুধু দায়িত্ব বেড়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করতে গেলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি এটাও জানান, যদি কেউ তাঁর কথা না শোনে এবং হিংসাত্মক পথে যায়, তাহলে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে। রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ডোমকলের এই দৃশ্য কিছুটা আলাদা বার্তা দিয়েছে। জয়ের মুহূর্তেও সংযম এবং সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান এক ভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেছেন, যা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


