Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

রাজ্যের পালাবদলের পর অনিশ্চয়তার ছায়ায় রাজ্যের ৫ লক্ষাধিক সিভিকসহ চুক্তিভিত্তিক কর্মী, ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রাজ্যে সরকারি দফতরগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মীসংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তরে মিলিয়ে প্রায় ৬ লক্ষ পদ খালি পড়ে রয়েছে। অথচ বাস্তবে কাজ চালাতে হচ্ছে অনেক কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে। বর্তমানে গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি মিলিয়ে কর্মীর সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারে। একই অবস্থা রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশেও, যেখানে বহু পদ এখনও পূরণ হয়নি।

এই ঘাটতি সামাল দিতে গত কয়েক বছরে মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন এঁরা। রাজ্যজুড়ে এ ধরনের কর্মীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি। দীর্ঘদিন ধরে এঁরাই প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ সচল রেখেছেন।

এর আগে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত এই কর্মীদের চাকরি বহাল থাকবে। সেই আশ্বাসে ভরসা করেই অনেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না, তা এখন অনিশ্চিত।

ইতিমধ্যেই পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। এমন আধিকারিকের সংখ্যা প্রায় ৫০০। তাঁদের মধ্যে অনেককেই সাময়িকভাবে ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে বলে খবর। একই ধরনের নির্দেশ পৌঁছেছে পুলিশ বিভাগের কিছু পদেও।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে এই নিয়ে আলোচনা চলছে। অফিসের করিডরেও দেখা যাচ্ছে, কর্মীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছেন। এক কর্মীর কথায়, সম্প্রতি সংসার শুরু করেছেন তিনি, পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব বেড়েছে। এই অবস্থায় চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁকে চিন্তায় ফেলেছে।

রাজ্যের অধিকাংশ দফতরেই এখন এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর নির্ভরশীলতা অত্যন্ত বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী কর্মীর অভাব পূরণ করছেন এঁরাই। ফলে হঠাৎ করে এঁদের সরিয়ে দিলে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

অন্যদিকে, স্থায়ী নিয়োগের বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে কোনও বড় উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে আরও স্পষ্ট নীতি প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক কর্মী ও তাঁদের পরিবার।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories