রাজ্যে সরকারি দফতরগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মীসংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তরে মিলিয়ে প্রায় ৬ লক্ষ পদ খালি পড়ে রয়েছে। অথচ বাস্তবে কাজ চালাতে হচ্ছে অনেক কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে। বর্তমানে গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি মিলিয়ে কর্মীর সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারে। একই অবস্থা রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশেও, যেখানে বহু পদ এখনও পূরণ হয়নি।
এই ঘাটতি সামাল দিতে গত কয়েক বছরে মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন এঁরা। রাজ্যজুড়ে এ ধরনের কর্মীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি। দীর্ঘদিন ধরে এঁরাই প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ সচল রেখেছেন।
এর আগে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত এই কর্মীদের চাকরি বহাল থাকবে। সেই আশ্বাসে ভরসা করেই অনেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না, তা এখন অনিশ্চিত।
ইতিমধ্যেই পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। এমন আধিকারিকের সংখ্যা প্রায় ৫০০। তাঁদের মধ্যে অনেককেই সাময়িকভাবে ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে বলে খবর। একই ধরনের নির্দেশ পৌঁছেছে পুলিশ বিভাগের কিছু পদেও।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে এই নিয়ে আলোচনা চলছে। অফিসের করিডরেও দেখা যাচ্ছে, কর্মীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছেন। এক কর্মীর কথায়, সম্প্রতি সংসার শুরু করেছেন তিনি, পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব বেড়েছে। এই অবস্থায় চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁকে চিন্তায় ফেলেছে।
রাজ্যের অধিকাংশ দফতরেই এখন এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর নির্ভরশীলতা অত্যন্ত বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী কর্মীর অভাব পূরণ করছেন এঁরাই। ফলে হঠাৎ করে এঁদের সরিয়ে দিলে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
অন্যদিকে, স্থায়ী নিয়োগের বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে কোনও বড় উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে আরও স্পষ্ট নীতি প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক কর্মী ও তাঁদের পরিবার।


