রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ও প্রাক্তন মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেছেন। সেই বক্তব্য তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দল থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর তাঁর বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হতে গেলে বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি বলেই তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই ঘটনার পরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আর ওই দলে থাকবেন না। সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, অন্যায় কাজের ফল একদিন না একদিন সামনে আসেই।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। মন্ত্রী থাকাকালীন সময়েও তিনি খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজ্যের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তে তিনি আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা চলছিল। উন্নয়নের অভাব এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তিনি সরব হন। তাঁর মতে, যাঁরা বেশি অর্থ দিতে পেরেছেন, তাঁরাই সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, বহু প্রার্থী বিপুল অর্থ খরচ করে টিকিট পেলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেননি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি জানান, দলের পরাজয়ে তিনি অবাক হননি। বরং তাঁর মতে, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে এই ফলাফল একরকম প্রত্যাশিতই ছিল। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে ছিল, যা এবার প্রকাশ্যে এসেছে।
অন্যদিকে, দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদ ছাড়ছেন না। এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে তর্ক-বিতর্ক চলছে। দলের ভেতরে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যদিও প্রকাশ্যে কেউ খুব একটা মুখ খুলছেন না।
মনোজ তিওয়ারি আরও জানিয়েছেন, তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলেও সবসময় তা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে হাওড়ার কিছু পুরনো সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। সব মিলিয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।


