দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর অবশেষে চোপড়া এলাকার ভৈষপিটায় আবার চালু হল সিপিএমের পুরনো দলীয় কার্যালয়। প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার নতুন করে দরজা খুলতেই লাল পতাকায় ভরে ওঠে চারপাশ। স্থানীয় বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এদিন স্পষ্ট উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
দলীয় নেতাদের মতে, অনেক বছর পর এই এলাকায় সংগঠনকে আবার দৃশ্যমানভাবে সক্রিয় করা গেল। জানা গেছে, ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই অফিসটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় বিরোধীদের তরফে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ সিপিএমের। যদিও এ বিষয়ে শাসক দলের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাম কর্মীদের দাবি, এতদিন ধরে বহুবার কার্যালয় খুলতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। নানা বাধা, ভয়ভীতি এবং সংঘর্ষের কারণে পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে বলেই তাঁরা মনে করছেন।
প্রবীণ সিপিএম নেতা সিরাজুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দলীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। মাঝেমধ্যে কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁর। কিন্তু এখন পরিবেশ কিছুটা অনুকূল হওয়ায় নতুন করে শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই কার্যালয় থেকেই এলাকার সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, চোপড়ার মাঝিয়ালী অঞ্চলের কাঁচাকালি এলাকাতেও এক দশক পর সিপিএমের আরেকটি অফিস খোলা হয়েছে। স্থানীয় নেতা বিশ্বনাথ সিংহের অভিযোগ, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক চাপে পড়ে কার্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রশাসনের সহায়তায় অফিসটি তালাবন্ধ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসায় মঙ্গলবার কোনও বাধা ছাড়াই কার্যালয় খুলতে পেরে খুশি বাম শিবির। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ায়ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আবার নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


