রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেন গায়ক ও লেখক, সুরকার কবীর সুমন। গত মার্চ মাসে ধর্মতলায় আন্দোলনের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর অবস্থান অনেকটাই তৃণমূলের সঙ্গে মিল রয়েছে বলেই মনে করা হয়েছিল।
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁর মন্তব্যে বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন এবং নিজেকে তৃণমূলের সমর্থক বলেও দাবি করেন না। তাঁর কথায়, রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশও হয়েছিল বিশেষ অনুরোধে, এবং সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূল ও কবীর সুমনকে একসঙ্গে ভাবা হলেও, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই ধারণায় ধাক্কা দিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, তাহলে কি তিনি নিজের অবস্থান বদলালেন?
নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও নিজের মতামত দিয়েছেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, ভোটের সময় কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা তিনি আগে ভাবেননি। তবে কেন মানুষের রায় শাসক দলের বিপক্ষে গেল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। তবুও তাঁর মতে, কিছু ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা মানুষের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চাকরির অভাব নিয়ে মানুষের ক্ষোভ তিনি উল্লেখ করেন।
একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, সরকারের সব কাজ সফল হয়নি। তবে সবকিছুই যে খারাপ ছিল, এমনও নয়। রাজ্যের কিছু প্রকল্প, যেমন ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ, তিনি প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের কাজ ভবিষ্যতে ইতিবাচকভাবে মনে রাখা হবে। নতুন সরকারকে নিয়েও আশা প্রকাশ করেছেন কবীর সুমন। তিনি চান, আগের সরকারের আমলে যে কিছু ইতিবাচক দিক ছিল, বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা, তা যেন বজায় থাকে।
রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনও শক্তিশালী বামপন্থী দল উঠে এলে তিনি তাদের সঙ্গে কাজ করার কথা ভাবতে পারেন। এমনকি তাঁদের জন্য গান তৈরির ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে কবীর সুমনের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি কি সত্যিই রাজনৈতিকভাবে নতুন পথে হাঁটতে চান, নাকি এটি শুধুই ব্যক্তিগত মত প্রকাশ—তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।


