পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘে কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিল ইরান। রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির উদ্দেশ্যে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ইরাভানি মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জাস্ক বন্দরের নিকটবর্তী এলাকা ও হরমুজ প্রণালীর কাছে দুটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং ইরানের উপকূলবর্তী কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত এই ঘটনাগুলিকে “উস্কানির স্পষ্ট ধারাবাহিকতা” বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সংলাপের পরিবর্তে সামরিক চাপ ও জবরদস্তির নীতিকেই প্রতিফলিত করছে। ইরাভানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির বদলে শক্তি প্রদর্শনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ যাতায়াত করে। ইরান বারবার সতর্ক করেছে যে, এই জলসীমায় তাদের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর কোনও হুমকি এলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চিঠিতে ইরান জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের কথিত বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয় এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করে এমন সব উসকানিমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিপন্ন হলে প্রয়োজনীয় জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং সম্ভাব্য ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি যখন বাড়ছে, তখনই ইরানের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।


