মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আবহে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে যুদ্ধ প্রযুক্তির এক ভিন্ন দিক। লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ যে কৌশল নিয়েছে, তা অনেক বিশেষজ্ঞকেই ভাবাচ্ছে। কম খরচে তৈরি ছোট ড্রোন ব্যবহার করে তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ইসরাইল-এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি, এই ড্রোনগুলির দাম খুবই কম—প্রায় ৩০০ ডলারের কাছাকাছি। কিন্তু কার্যকারিতার দিক থেকে এগুলো বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ছোট আকার ও ধীর গতির কারণে অনেক সময় এগুলো সহজে ধরা পড়ে না।ইসরাইলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম মূলত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য তৈরি। কিন্তু এই ছোট ড্রোনগুলো ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নিচু উচ্চতায় উড়ে যাওয়ার কারণে রাডার সেগুলো শনাক্ত করতে সমস্যায় পড়ে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যাচ্ছে।জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এই ধরনের হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে আনছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকশো ডলারের ড্রোন ঠেকাতে কয়েক লক্ষ বা মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকেও চাপ তৈরি করছে।হিজবুল্লাহর দাবি, তারা বাজারে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেই এই ড্রোন তৈরি করছে। অর্থাৎ খুব উন্নত প্রযুক্তি না থাকলেও কার্যকর আক্রমণ চালানো সম্ভব—এই বার্তাই সামনে আসছে। এই ধরনের কৌশলকে অনেকেই “অপ্রতিসম যুদ্ধ” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যেখানে কম খরচে বড় শক্তিকে চাপে ফেলা হয়।ইসরাইলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় সতর্ক থাকতে হচ্ছে। শুধু হামলা নয়, নজরদারির কাজেও এই ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তির দৌড়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বড় বাজেট বা উন্নত অস্ত্রই যে সব সময় শেষ কথা নয়, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিশ্বের সামরিক বিশেষজ্ঞদের।
Popular Categories


