বিধানসভা ভোটের আবহ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।। তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভিন্ন সভা থেকে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন তিনি, যা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে হুমকি ও উত্তেজনা তৈরির সামিল।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রচারের সময় একাধিক সভায় অভিষেকের বক্তব্যে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে করা কিছু মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র নাম উল্লেখ করে দেওয়া হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক তীব্র হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, আরামবাগ, হরিণঘাটা ও নানুরে অনুষ্ঠিত কয়েকটি জনসভায় বিরোধী দলের কর্মীদের উদ্দেশে কড়া ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ওই মন্তব্যগুলি রাজনৈতিক সংঘাত বাড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হুমকি, উত্তেজনা ছড়ানো এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো অভিযোগ সংক্রান্ত ধারা। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর কয়েকটি ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন সভাগুলির ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ক্লিপ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে।এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, ভোটের সময় তৃণমূল নেতাদের ভাষা রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ভোটের ফল প্রকাশের পর সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের রায়কে প্রভাবিত করে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ভোটের ফল বেরোনোর পর বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে দায়ের হওয়া এফআইআর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
Popular Categories


