রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই গো-মাংস বিক্রি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে শহরের পুরনো ও জনপ্রিয় রেস্তরাঁগুলিতেও। কলকাতার ধর্মতলায় অবস্থিত প্রায় ৯৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী রেস্তরাঁ ‘নিজাম’ সম্প্রতি তাদের মেনু থেকে গো-মাংসের বিভিন্ন পদ সরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ।খাদ্যপ্রেমীদের কাছে নিজামের নাম দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত পরিচিত। কাঠি কাবাব রোল, বিরিয়ানি, কাবাব, তন্দুরি পদ কিংবা ফিরনি— নানা ধরনের খাবারের জন্য এই রেস্তরাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে গো-মাংসের কিছু পদ আলাদা ভাবে বিক্রি হত তাদের একটি নির্দিষ্ট বিভাগে। কিন্তু সম্প্রতি সেই অংশের পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।রেস্তরাঁর এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ঝামেলা বা অশান্তি এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এখন ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।শুধু নিজাম নয়, শহরের আরও বহু ছোট-বড় খাবারের দোকান ও হোটেলও একই সমস্যার মুখে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গো-মাংসের যোগান আগের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছে। ফলে বাজারে দামও দ্রুত বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে খাবারের দামের উপর।ধর্মতলারই আরেক রেস্তরাঁর কর্মী জানান, এখনও তাঁরা গো-মাংসের পদ বিক্রি করছেন। তবে মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিরিয়ানির মতো খাবারের দামও বাড়াতে হয়েছে। আগে যে খাবার ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হত, এখন তার দাম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনও সরকারি নির্দেশ বা বাধা এলে তাঁরা গো-মাংস বিক্রি বন্ধ করে চিকেন বা মাটনের পদেই জোর দেবেন।এক হোটেল মালিকের কথায়, বর্তমানে ব্যবসা চললেও চাপ বাড়ছে। কারণ আগের মতো সহজে মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও অনেক বেশি। ফলে লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তবে পার্ক স্ট্রিটের কিছু রেস্তরাঁয় এখনও স্বাভাবিক ভাবেই গো-মাংসের পদ বিক্রি হচ্ছে। সেখানকার এক হোটেল ম্যানেজার জানান, সরকার যদি কোনও নির্দেশিকা জারি করে, তাহলে তাঁরা তা মেনে চলবেন।
Popular Categories


