১০০ দিনের কাজসহ গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলার বকেয়া টাকা আটকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা চালিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। আর এবার লোকসভা ভোটের মুখে সেই বঞ্চনার রাজনীতিকে আড়াল করতে এবং বাংলার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করতে ‘স্পেশাল অডিট’ বা বিশেষ তদন্তের নামে নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে। রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা তৈরি করতেই এই অতিসক্রিয়তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখে বাংলার লাখ লাখ গরিব শ্রমিকের পেটে লাথি মেরেছে মোদি সরকার। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের দাপটে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার লাগাতার চেষ্টা চলেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আবাস যোজনা ও সড়ক যোজনার টাকাও দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এখন কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ায় তারা টাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে রাজ্যকে হেনস্থা করতে ‘জিরো টলারেন্স’-এর ফাঁকা বুলি আউড়ে অডিটের নামে ভয় দেখানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, গ্রামীণ স্তরের জনপ্রতিনিধি ও বিডিও অফিসসহ সরকারি আধিকারিকদের কালিমালিপ্ত করতেই এই স্পেশাল অডিটকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দেওয়ার পরও রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জবকার্ড হোল্ডারদের বকেয়া মেটানো, বাংলার বাড়ি ও পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিকাঠামো সচল রেখেছিল। কেন্দ্রের আর্থিক অবরোধের মুখেও বাংলার এই সাফল্যকে খাটো করতেই এখন রাস্তার মান বা কাটমানির মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে জলঘোলা করার চেষ্টা চলছে।
এমনকি গ্রামীণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার নামে যে নতুন চার অঙ্কের হেল্পলাইন নম্বর চালুর কথা বলা হচ্ছে, তাও আসলে পঞ্চায়েতের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ করার এবং নবান্নের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার একটি পরিকল্পিত চাল বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ দল গঠনের নামে আমলাতন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে একটি রাজনৈতিক রিপোর্ট তৈরির প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, গ্রামীণ স্তরে বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায়, তারা এখন নবান্ন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের শীর্ষস্তরকে ব্যবহার করে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের হেনস্থা করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে।


