তৃণমূল জমানায় বীরভূমের এক সাধারণ মোটরসাইকেল মেকানিক কীভাবে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠলেন এবং আস্ত এক ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানিয়ে ফেললেন, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মহিম শেখের এই বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলতেই বাংলায় শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কয়লা পাচার, বালি চুরি আর গরিব মানুষের থেকে নেওয়া তোলাবাজির টাকায় যে বীরভূমের নেতারা ‘সোনার কেল্লা’ বানিয়েছেন, এই স্টেডিয়াম তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।
অতীতে প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায় অনুব্রত মণ্ডলকে মাঠে মেলা করা নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন, যার ভিডিও একসময় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। তবে অনুব্রত মণ্ডলের সেই ‘মেলা’র গল্পকেও এবার ছাপিয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের এই পঞ্চায়েত নেতা। বীরভূমের সদাইপুর থানার গুনসিমা গ্রামে তৈরি হয়েছে এই বিশাল প্রাইভেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম। জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুল, খেলোয়াড়দের বিলাসবহুল আবাসন থেকে শুরু করে অনুশীলনের অত্যাধুনিক পরিকাঠামো— কী নেই সেখানে। এই ব্যক্তিগত স্টেডিয়ামেই সিএবির সিনিয়র বেঙ্গল ক্রিকেট দল প্রি-সিজন প্রস্তুতি শিবিরও করে গিয়েছে। একজন সাধারণ মেকানিক থেকে মাত্র কয়েক বছরে কয়েক কোটি টাকার এই সাম্রাজ্য খাড়া করা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
বিজেপির জেলা নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে এবং দলের প্রভাব খাটিয়ে মহিম শেখ বেআইনি কয়লা ব্যবসা, বালি পাচার এবং বিভিন্ন সরকারি ঠিকাদারির কাজে কাটমানি খেয়ে এই বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। গরিবের হকের টাকা লুঠ করেই তৃণমূল নেতারা নিজেদের শখ মেটাতে কোটি কোটি টাকার ব্যক্তিগত স্টেডিয়াম বানাচ্ছেন বলে দাবি করেছে বিজেপি। এই দুর্নীতির শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের গা বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মহিম শেখ। তাঁর দাবি, তিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ এবং নিজের বৈধ ব্যবসার উপার্জিত অর্থ থেকেই এই স্বপ্নের স্টেডিয়াম তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে বীরভূমের সাধারণ মানুষের মতে, বিগত দিনে জেলাজুড়ে চলা সীমাহীন দুর্নীতির টাকা যে কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে, এই স্টেডিয়ামই তার সবথেকে বড় প্রমাণ এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।


