জয়নগর মজিলপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের সম্ভাবনাকে ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। রেলের তরফে প্ল্যাটফর্ম খালি করার নির্দেশ জারি হওয়ার পর থেকেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করা ছোট দোকানদার ও হকারদের মধ্যে। নিজেদের রুজি-রুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে এ দিন বড় সংখ্যায় আন্দোলনে নামেন তাঁরা।
সকাল থেকেই স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে জড়ো হতে শুরু করেন বহু হকার। পরে সেখান থেকেই একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি স্টেশন এলাকা থেকে বেরিয়ে সিনেমাতলা ও রথতলা ঘুরে আবার স্টেশনের সামনে এসে শেষ হয়। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। তাঁদের মূল দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা না করে কাউকে স্টেশন চত্বর থেকে সরানো যাবে না।
হকারদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে তাঁরা স্টেশন এলাকাতেই ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন। প্রায় ১২০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তাই হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা হলে বহু পরিবার চরম সমস্যার মুখে পড়বে। আন্দোলনকারীদের একাংশ জানান, রেলের উন্নয়নমূলক কাজের বিরোধিতা তাঁদের নেই। তবে উন্নয়নের নামে গরিব মানুষের জীবিকা নষ্ট করা উচিত নয় বলেও দাবি তোলেন তাঁরা।
এ দিনের বিক্ষোভে বিভিন্ন হকার সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেন সারা বাংলা হকার ইউনিয়নের নেতৃত্বের একাধিক সদস্য। তাঁরা বলেন, পুনর্বাসনের স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে উচ্ছেদ অভিযান মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথেও হাঁটার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
দুপুর পর্যন্ত আন্দোলন চলার পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আপাতত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। এই খবরে কিছুটা স্বস্তি ফেরে হকারদের মধ্যে। যদিও রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এ দিনের অভিযান করা হয়নি। ভবিষ্যতে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্টেশন এলাকার হকারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। তাঁদের দাবি, রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন সমাধান বের করা হোক যাতে উন্নয়নের কাজও এগোয়, আবার সাধারণ মানুষের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকে।


