বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় তিন সপ্তাহ পর অবশেষে দলের পরাজয় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ভোটে অনিয়ম না হলে তৃণমূল আরও অনেক বেশি আসন পেত এবং চতুর্থবারের জন্য সরকার গঠন করত।
গত ৪ মে প্রকাশিত নির্বাচনের ফলে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পায় এবং তৃণমূলের ঝুলিতে আসে ৮০টি আসন। পরে ফলতা কেন্দ্রের ফল প্রকাশের পর বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০৮। এই পরিস্থিতিতেই দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোটে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর দাবি, গণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরে কিছু বিজেপি কর্মী ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। শুধু তাই নয়, একাধিক কেন্দ্রে ইভিএমে কারচুপি এবং তথ্য বিকৃতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মমতার বক্তব্য, প্রায় ১৫০টি আসনে প্রকৃত ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে ছিল, সেখানে ফল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের ভোট সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে তৃণমূল অন্তত ২২০ থেকে ২৩০টি আসনে জয়ী হতে পারত।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এতদিন তিনি প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলেননি। তবে রবিবারের বক্তব্যে তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে সব কিছু চুপচাপ সহ্য করেছেন। এরপরই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধী মত দমন করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বহু জায়গায় মারধর, ভাঙচুর, ভয় দেখানো, দখলদারি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের বহু দলীয় কার্যালয় দখল হয়ে গিয়েছে এবং দলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের কর্মীদের আইন মেনে কাজ করার আবেদন জানান। তাঁর মতে, যারা প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নিরপেক্ষ থাকা উচিত। আইন রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁরা যদি আইন ভাঙেন, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক রাগ থেকেই এই ধরনের কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কেও বার্তা দেন দলনেত্রী। তিনি জানান, এখন তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য হল বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করা এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে সরানো।


