সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকার স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুন মামলার অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল নিউটাউনে। সোমবার রাতে ইকোপার্ক থানা এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনার ঘটনায় তাঁকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ, বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর সময় এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন তিনি। ঘটনায় আহত হয়েছেন এক ব্যক্তি।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাতে নিউটাউনের একটি রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন প্রশান্ত। সেই সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর গাড়ি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। ধাক্কার জেরে ওই ব্যক্তি ছিটকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্কুটারের উপর গিয়ে পড়েন। স্কুটারে থাকা ব্যক্তিও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আহত ব্যক্তির পায়ে চোট লাগে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তখন প্রশান্ত বর্মণ উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং উপস্থিত কয়েকজনকে হুমকিও দেন। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেনি পুলিশ।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইকোপার্ক থানার পুলিশ। এরপর প্রশান্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, তিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যদিও মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও সামনে আসেনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুন মামলা। গত বছরের অক্টোবর মাসে নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকার খালের ধারে উদ্ধার হয়েছিল স্বপনের দেহ। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে অপহরণের পর খুন করা হয়েছিল। সেই মামলায় নাম জড়ায় প্রশান্ত বর্মণের। এরপর থেকেই তিনি আইনি জটিলতার মধ্যে ছিলেন।
প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর আদালত থেকে আগাম জামিন পেলেও পরে সেই জামিনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায় পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি বলে অভিযোগ। পরে আদালতের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্টেও যান প্রশান্ত। সেখান থেকেও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা দিচ্ছিলেন। যদিও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মাঝে মধ্যে নিউটাউনের বাড়িতে তাঁকে দেখা যেত।
সোমবার রাতের এই দুর্ঘটনার পর তাঁকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ায় নতুন করে তদন্তে গতি আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


