পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে লাগাতার বাড়ছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। এই আবহে কেন্দ্রের ক্ষমতাশীল বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক শোষণ চালানোর বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। সোমবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, জানুয়ারি থেকে মার্চ— এই মাত্র তিন মাসেই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলি সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ১৯,৪৭০ কোটি টাকা মুনাফা লুটেছে। এই বিপুল অঙ্কের মুনাফা হওয়া সত্ত্বেও কেন তার সামান্য সুবিধাও আম জনতা পাচ্ছে না, তা নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে হাত শিবির। ভোট মিটতেই এভাবে চুপিসাড়ে কিস্তিতে কিস্তিতে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে পকেট কাটার এই নীতিকে প্রকাশ্য ‘ডাকাতি’ ও ‘লুট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। অন্যদিকে, দেশের এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের বাজারে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র উপহাস করে ‘মেহেঙ্গাই মানব’ বা মূল্যবৃদ্ধির কারিগর বলে কটাক্ষ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মোদী সরকারের এই তীব্র জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে দেশের যুব কংগ্রেস আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে বড়সড় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নামছে বলেও এআইসিসি-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পরপরই গত কয়েকদিনে পরপর চারবার বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম। স্বাভাবিকভাবেই ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে দেশজুড়ে পণ্য পরিবহণ খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খোলা বাজারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দুধ, শাকসবজি থেকে শুরু করে জীবনদায়ী ওষুধ, কফি এবং শিশুদের লজেন্স— সমস্ত কিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে যে তেলের সংকট তৈরি হতে পারে এবং তার আঁচ ভারতেও পড়তে পারে, সেই বিষয়ে রাহুল গান্ধী অনেক আগেই কেন্দ্রকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু কর্পোরেট তোষণ ও সস্তা রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকা মোদী সরকার সেই সতর্কবাণীতে বিন্দুমাত্র কান দেয়নি। সোমবার ফের জ্বালানির দাম বাড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন যে, এই সরকারের একটাই কাজ— নির্বাচনের সময় মিথ্যে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেওয়া, আর ভোট মিটে গেলে চোরের মতো সাধারণ মানুষের পকেট কেটে পুঁজিপতি বন্ধুদের পকেট ভরানো।
এই চরম মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বিজেপি সরকারের বিগত ১২ বছরের আর্থিক খতিয়ান তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে স্পষ্ট দেখিয়েছেন যে, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৭৫.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। অথচ মোদী সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বসিয়ে দেশে পেট্রলের দাম ৪৩.০১ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৬৭.৮৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাড়্গের অভিযোগ, গত ১২ বছরে দেশের আম জনতার ওপর করের বোঝা চাপিয়ে মোদী সরকার প্রায় ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা লুট করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার বা যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে বিজেপি আসলে নিজেদের চরম ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা ঢাকতে চাইছে, যা দেশের কোটি কোটি মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের পিঠে এক নির্মম ছুরিকাঘাতের শামিল।তুলনামূলকভাবে না বাড়লেও, শুধুমাত্র চড়া উৎপাদন শুল্ক বসিয়ে দেশে পেট্রলের দাম ৪৩.০১ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৬৭.৮৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাড়্গের অভিযোগ, গত ১২ বছরে দেশের আম জনতার ওপর করের বোঝা চাপিয়ে মোদী সরকার প্রায় ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা লুট করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার বা যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে বিজেপি আসলে নিজেদের চরম ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা ঢাকতে চাইছে, যা দেশের কোটি কোটি মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের পিঠে এক নির্মম ছুরিকাঘাতের শামিল।


