Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

ক্ষমতা বদলের পরেই বেসুরো তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ও সন্দীপন! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার কি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়কের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিধানসভায় এমন একটি ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেই সময় স্পিকারের ঘরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। পরে এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে দুই বিধায়ক জানান, এটি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। নতুন স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানাতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। ঋতব্রত বলেন, এর আগে ব্যস্ততার কারণে দেখা করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সৌজন্য বিনিময় হয়।

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ঘটনাটি নিছক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই ঋতব্রত ও সন্দীপন দলের নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কালীঘাটে তৃণমূল নেতৃত্বের বৈঠকেও তাঁরা নিজেদের মত প্রকাশ করেছিলেন। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বারবার সাক্ষাৎ ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

সন্দীপন সাহা অবশ্য দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ কাকতালীয়। তিনি বলেন, তাঁরা নতুন বিধায়ক হিসেবে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে ছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই কথা হয়েছে। এর মধ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক অর্থ খোঁজার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি জানান। এর আগেও দিল্লির পুরনো বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রতের সাক্ষাৎ হয়েছিল। দু’জনকে হাসিমুখে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। তখনও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। ঋতব্রত পরে জানিয়েছিলেন, সেই সাক্ষাৎও হঠাৎ করেই হয়েছিল।

মঙ্গলবারের বৈঠকেও প্রশাসনিক কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। ঋতব্রত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলগুলিকেও প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসনিক আলোচনায় সব দলের অংশ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আগে অনেক সময় বিরোধীদের গুরুত্ব দেওয়া হত না। এখন যদি সেই পরিস্থিতি বদলায়, তাহলে তা রাজ্যের পক্ষে ভালো।

ঋতব্রত নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগে বিরোধী সাংসদ হিসেবে প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পাননি। পরে শাসক দলের সাংসদ হওয়ার পর সেই সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রে সব পক্ষের মতামত শোনা জরুরি।তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র অনেক শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ না দিলে তার ফল কখনও ভালো হয় না। সরকারের উচিত বিরোধীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং উন্নয়নের কাজে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলা।

এই ঘটনার পরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দলের ভেতরের মতবিরোধ ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি শুধুই রাজনৈতিক সৌজন্য। তবে ঘটনাটি যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু করেছে, তা বলাই যায়।

Hot this week

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

Related Articles

Popular Categories