বাংলায় ক্ষমতা হারিয়ে রাজ্যে এখন পুরোপুরি কোনঠাসা তৃণমূল কংগ্রেস। ফলতা পুনর্নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়া এবং প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর এবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী খুঁজে পেতে কালঘাম ছুটছে দলটির। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করতেই তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার চেনা লড়াই উধাও। উপনির্বাচন ঘোষণার আগেই পরাজয়ের ভয়ে নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতারা একে একে রণে ভঙ্গ দিচ্ছেন। বিধানসভা ভোটে হারের পর প্রথমেই প্রার্থী হতে সাফ মানা করে দিয়েছেন পবিত্র কর। এরপর দলের পুরনো মুখ শেখ সুফিয়ানের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্য স্তরের নেতারা। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব ফেরানোর পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুফিয়ান, যা উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলকে বড়সড় ধাক্কা দিল।
ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রেখে নন্দীগ্রামের আসন থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা ভোটে এই নন্দীগ্রাম থেকেই প্রায় ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। শুভেন্দুর ইস্তফার কারণে এই আসনে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেখানে লড়াইয়ের আগেই কার্যত ময়দান ছাড়ছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল। সুফিয়ানের বাড়িতে গিয়ে নেতারা তাঁকে প্রার্থী হওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যথেষ্ট সফল এবং নন্দীগ্রামের উন্নয়নের জন্য তিনি অনেক কিছু করবেন।
একসময় নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রধান সেনাপতি হিসেবে পরিচিত শেখ সুফিয়ান দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে জানান, এখন আর দলের কেউ তাঁদের খোঁজ রাখে না। এতদিন ধরে শুধুমাত্র অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য তাঁদের উস্কানি দেওয়া হয়েছিল। নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পারিবারিক কারণের কথাও উল্লেখ করেছেন সুফিয়ান। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুফিয়ানের এই সিদ্ধান্ত নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সংগঠনকে পুরোপুরি তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিল। ফলতার ভরাডুবির পর নন্দীগ্রামেও যে তৃণমূলের জামানত বাঁচানো দায় হবে, নেতাদের এই প্রার্থী হতে না চাওয়ার হিড়িক থেকেই তা স্পষ্ট।


