বীরভূমের বোলপুরে এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পরিবেশ। একসময় যে তৃণমূল পার্টি অফিসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্টি অফিস প্রায় ফাঁকাই ছিল। বাইরে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী বসে ছিলেন। ভিতরে তেমন কাউকে দেখা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, ভোটে দলের পরাজয়ের পর থেকেই এই পরিবর্তন চোখে পড়ছে।একসময় বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁর নির্দেশেই চলত জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছিল তাঁর দাপটের আলাদা প্রভাব। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পুরনো চেহারা আর নেই। এখন অনেকটাই নির্জন সময় কাটছে তাঁর। জানা গিয়েছে, তিনি এখন নিয়মিত পার্টি অফিসেও আসেন না। বিকেলের দিকে কিছু সময়ের জন্য আসেন, টেলিভিশনে খবর দেখেন, তারপর আবার বাড়ি ফিরে যান।ভোটের আগে অনুব্রত মণ্ডল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছিলেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও এআই-তৈরি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি দলের কয়েকজন পরাজিত প্রার্থী প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়ে বীরভূমে দলের ভরাডুবির জন্য অনুব্রতকেই দায়ী করেছেন।শুধু অনুব্রত নন, প্রভাব কমেছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখেরও। তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হলেও দল ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে জেলা পরিষদেও তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীরাও আগের মতো সক্রিয় নন।এদিকে জেলা পরিষদের একটি অফিসে নতুন করে ভারতমাতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি টাঙানো নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় কাজল শেখ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে খবর। নিরাপত্তারক্ষী কমিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি অসন্তুষ্ট। যদিও তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়নি।বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই পরিস্থিতিকে তৃণমূলের ‘কর্মফল’ বলেই কটাক্ষ করেছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাপটের ফল এখন তৃণমূলকে ভোগ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে বীরভূমের রাজনীতিতে এখন স্পষ্ট পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
Popular Categories


