দেশজুড়ে যখন সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুজ্জোহা বা বকরিদ উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে গেরুয়া শিবিরের মদতপুষ্ট উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির বাড়বাড়ন্ত আরও একবার সামনে এল। এবার টার্গেট রাজ্যের একটি ঐতিহাসিক জামা মসজিদ। আগামী ১ জুনের মধ্যে এই প্রাচীন মসজিদটি খালি করার জন্য ফতোয়া জারি করেছে ‘উত্তরাখণ্ড কালী সেনা’ নামের একটি কট্টরপন্থী সংগঠন। অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের পরোক্ষ প্রশ্রয়েই এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সাহস পাচ্ছে এই সব স্বঘোষিত রক্ষকরা।
উগ্রপন্থী সংগঠনটির দাবি, শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদ ভবনটি নাকি ‘অবৈধ’। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে উত্তরাখণ্ড কালী সেনার সভাপতি ভূপেশ জোশী সরাসরি মসজিদের প্রধান কর্মকর্তা অসীমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র হুমকি দিচ্ছেন এবং অবিলম্বে মসজিদ চত্বর খালি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। জোশীর দাবি, তাঁরা নাকি ‘উদারতা’ দেখিয়ে ঈদ পর্যন্ত সময় দিচ্ছেন, আর ১ জুনের মধ্যে মসজিদ খালি না হলে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে তা সিল করে দেওয়া হবে।
ভিডিওটিতে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক এবং বিপজ্জনক বিষয় হলো, যখন এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন সেখানে একাধিক পুলিশ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা বা উস্কানিমূলক মন্তব্য রুখতে কোনো পদক্ষেপই করেনি। তারা স্রেফ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে এই ক্ষমতার আস্ফালন উপভোগ করেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে উস্কে দিতেই এই ধরণের ঘটনাগুলিতে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। উৎসবের মরশুমে একটি প্রাচীন ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে এই ধরণের উস্কানি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এক গভীর চক্রান্ত। সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ প্রশাসনের এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
তবে উগ্রপন্থীদের এই দাদাগিরির সামনে মাথা নত করছে না মসজিদ কমিটি। জানা গেছে, এই অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হুমকির বিরুদ্ধে তাঁরা পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসন বা রাজ্য সরকারের নীরবতাই প্রমাণ করে দেয় যে, আইনের শাসন বজায় রাখার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাটাই এখন উত্তরাখণ্ডের শাসকদলের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।


