রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রবিবার দলের পরিষদীয় বৈঠকে অধিকাংশ বিধায়কের অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ওই বৈঠকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় উপস্থিতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি বাতিল করতে হয়।
বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক সময় এই জেলার তৃণমূল বিধায়কেরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকে দ্রুত কলকাতায় পৌঁছে যেতেন। কিন্তু এবার জেলার কোনও তৃণমূল বিধায়কই বৈঠকে যোগ দেননি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলেছে। বর্তমানে জেলায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা কমেছে এবং বিরোধী দলগুলিও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এই পরিবর্তনের পর অনেক জনপ্রতিনিধি আগের মতো সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন দুর্নীতি মামলার তদন্ত এবং একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে অনেক নেতা-জনপ্রতিনিধির মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই অনেকে প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি সীমিত রাখছেন। যদিও এই বিষয়ে কোনও বিধায়ক প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি।
সুতির বিধায়ক ইমানী বিশ্বাস অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছেন। নিজের এলাকায় পূর্বনির্ধারিত কাজ থাকায় তিনি বৈঠকে যেতে পারেননি বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কারও কারও ঘনিষ্ঠ মহল থেকে অসুস্থতার কারণ দেখানো হয়েছে।
জেলা তৃণমূল নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করতে চায়নি। বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, কারা বৈঠকে গিয়েছেন বা যাননি, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
এদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং বহু বিধায়ক নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। যদিও এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে রবিবারের বৈঠকে বিধায়কদের ব্যাপক অনুপস্থিতি যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


