Wednesday, September 23, 2026
25 C
Kolkata

গাজার শিশুদের নিশানা করেই হামলা?ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর রিপোর্ট প্রকাশ রাষ্ট্রসংঘের

গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ফিলিস্তিনি শিশুদের উপর হামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইজরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলাগুলির ফলে বহু শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং অসংখ্য শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার পর্যালোচনা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গাজায় সামরিক অভিযানের সময় এমন অনেক হামলা হয়েছে যেখানে শিশুদের মৃত্যু ও আহত হওয়ার সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। তাদের মতে, এই ঘটনাগুলি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং শিশুদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এমন পদক্ষেপের ফল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুদ্ধের সময় গাজায় নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। তদন্ত কমিশনের মতে, হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেক শিশু গুরুতর আঘাত নিয়ে বেঁচে আছে। বহু শিশু পরিবার হারিয়েছে, ঘরছাড়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক আঘাতের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে।

রাষ্ট্রসংঘের তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলিধর এক বিবৃতিতে বলেন, সংগৃহীত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে শিশুদের ওপর হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁর বক্তব্য, একটি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের সঙ্গে জড়িত, তাই শিশুদের ক্ষতি করা মানে সেই সমাজের ভবিষ্যৎকে আঘাত করা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নবজাতকদের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার অভাব, অপুষ্টি এবং নিরাপদ পরিবেশের সংকট শিশুদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তদন্তকারীদের মতে, গাজার প্রায় সব শিশুরই এখন মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ইজরায়েল এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। জেনেভায় ইজরায়েলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের সেনাবাহিনী কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের লক্ষ্য করে না। তারা দাবি করেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। এছাড়া টিকাকরণ কর্মসূচি, চিকিৎসাকর্মীদের প্রবেশ এবং অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির ক্ষেত্রেও ইজরায়েলের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতিও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে গাজার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যে এখনও অব্যাহত, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।

Hot this week

SIR-এর নামে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ! ১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা SIR-কে...

পাঁচ বছরে IIT-তে ৫৩ পড়ুয়ার মৃত্যু, মৃতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি এসসি, এসটি ও ওবিসি

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিগুলিতে পড়ুয়াদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান...

যমজ সন্তান হলেই কমিশনের নোটিস! দিল্লিতে SIR-এর নিয়মে বিপাকে ২ লক্ষের বেশি ভোটার

দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা SIR-কে ঘিরে...

Topics

পাঁচ বছরে IIT-তে ৫৩ পড়ুয়ার মৃত্যু, মৃতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি এসসি, এসটি ও ওবিসি

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটিগুলিতে পড়ুয়াদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান...

যমজ সন্তান হলেই কমিশনের নোটিস! দিল্লিতে SIR-এর নিয়মে বিপাকে ২ লক্ষের বেশি ভোটার

দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা SIR-কে ঘিরে...

Related Articles

Popular Categories