রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন উপায়ে তাঁর দলের জনপ্রতিনিধিদের উপর চাপ সৃষ্টি করে দল ছাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এই কাজে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি প্রশাসনের একাংশকেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার একটি ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, কয়েকজন বিধায়ক তাঁর কাছে এসে জানিয়েছেন যে তাঁদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি দলীয় বৈঠকে যোগ দিলেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে শুভ নয়।
সম্প্রতি দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বহু বিধায়কের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে দলের ভিত দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কয়েকজন নেতা দল ছাড়লেও তৃণমূলের সংগঠন ভেঙে পড়বে না। কারণ দলের প্রকৃত শক্তি সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা।
এদিন দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ককেও পরোক্ষে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, অনেকেই দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পর এখন অন্য পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন দলের পাশে থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মমতা আরও বলেন, দলের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নেই— এমন অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তিনি নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে বসছেন এবং কর্মী-নেতাদের সমস্যা শুনছেন বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, যাঁরা এখন দল ছাড়ছেন, তাঁদের অনেকেই আসলে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে ঝুঁকছেন।
তৃণমূল নেত্রী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে সাহস হারালে চলবে না। বহু সাধারণ কর্মী অতীতে নানা ধরনের চাপ ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, তবুও তাঁরা সংগঠন ছেড়ে যাননি। সেই উদাহরণ মনে রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়ে বলেন, অর্থ বা ভয়ের কারণে যারা দলকে দুর্বল করার পরিকল্পনায় শামিল হচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না।


