পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যেই বুধবার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেল নবান্নে। গত কয়েকদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে মতপার্থক্য এবং বিভাজনের ছবি সামনে এসেছে, তার মধ্যেও দলের বিভিন্ন অংশের বিধায়কদের একই প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শুধু শাসকদল নয়, বিরোধী শিবিরের বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
গত কয়েকদিনে তৃণমূলের একাংশ প্রকাশ্যে দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা এই গোষ্ঠী নিজেদের নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে। আগে থেকেই জানা গিয়েছিল, এই শিবিরের বিধায়কেরা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। সেই অনুযায়ী বিধানসভায় দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ করে তাঁরা নবান্নে পৌঁছন।
তবে দিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল অন্য জায়গায়। দেখা যায়, যাঁরা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও নতুন শিবিরে যোগ দেননি কিংবা সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেও নবান্নের বৈঠকে উপস্থিত হন। একে একে সেখানে পৌঁছন কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক পরিচিত মুখ।
এর ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা এক মঞ্চে আসতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। রাজ্যের প্রশাসনিক স্বার্থে এই ধরনের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন অনেকে।
নবান্নে প্রবেশের সময় কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি একজন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসেছেন। তাঁর বক্তব্য, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনিক আলোচনায় উপস্থিত থাকা দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট জটিল। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান এবং বিভিন্ন নেতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বুধবারের এই বৈঠক দেখিয়ে দিল, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও প্রশাসনিক আলোচনার ক্ষেত্রে অনেক সময় ভিন্ন অবস্থানের নেতারাও একই ছাদের তলায় বসতে পারেন।


