সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যাঁরা সরকারকে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে ভয় পাচ্ছেন, তাঁদের বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত।
সাংসদ বলেন, “যাঁরা এদেশের প্রকৃত নাগরিক, তাঁদের তথ্য দিতে কোনও ভয় থাকার কথা নয়। যাঁদের মনে ভয় নেই, তাঁরা বুক ফুলিয়ে এগিয়ে আসুন এবং ফর্ম পূরণ করুন। আর যাঁদের ভয় আছে, তাঁরা যদি বাংলাদেশি হয়ে থাকেন, তবে তাঁদের এদেশ ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাওয়াই উচিত।”
জগন্নাথ সরকারের দাবি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে গেলে পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, যার ফলে অনেক মানুষ নথি দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তাঁর মতে, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বা যাঁরা অনুপ্রবেশকারী, তাঁরাই মূলত নথি জমা দিতে ভয় পাচ্ছেন।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সরকারি প্রকল্পগুলিতে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে বলে বিজেপির দাবি। দলের বক্তব্য, এর ফলে প্রকৃত নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সুবিধা সঠিক উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছবে এবং ভুয়ো নথির মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমবে।
বিজেপির একাংশের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তথ্য যাচাই যথাযথভাবে না হওয়ায় বহু অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চায় এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র বৈধ নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, জগন্নাথ সরকারের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতাদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের একাংশকে অপমান করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষই এই ধরনের মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব দেবেন।
সাংসদের মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি প্রকল্পে নথি যাচাই ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


